English ছবি ভিডিও
Bangla Font Problem?
শেষ আপডেট ১১:৩০ অপরাহ্ণ
ঢাকা, রবিবার , ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ ইং , ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কেশবপুর উপজেলা সাইক্লোন আম্পানের তান্ডবে লন্ডভন্ড

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মোহাম্মদ কাওছার হোসেন, খুলনা ব্যুরো প্রধানঃ যশোরের কেশবপুর উপজেলা সাইক্লোন আম্পানের তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ঝড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, গাছপালা, ঘরবাড়ি, মুরগির খামার, বিভিন্ন ফল, উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পিলার ভেঙ্গে, তার ছিড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পুরো উপজেলা। সে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এখনও স্বাভাবিক হয়নি।

তারপর আবার বুধবার (২৭ মে) রাতে উপজেলার উপর দিয়ে প্রচন্ড বেগে কাল বৈশাখী ঝড় বয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানা গেছে, বিভিন্ন সেক্টরে ২৮ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সরেজমিনে মধ্যকুল, রামচন্দ্রপুর, মূলগ্রাম, বাঁশবাড়িয়া, রঘুরামপুর, দোরমুটিয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, মেহগনি, শিশু, আম, কাঁঠালসহ অসংখ্যক গাছ ভেঙ্গে গেছে বা উপড়ে পড়েছে। অনেকের ঘরবাড়ির চাল উড়ে গেছে। ঝড়ে গাছ ভেঙ্গে ঘরবাড়ির উপর পড়েছে।

উপজেলার দোরমুটিয়া দাখিল মাদ্রাসা, মূলগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। মুরগির খামারগুলো মাটির সাথে মিশে গেছে। এঘটনায় ১৫ জন আহত হয়েছে। উপজেলার মূলগ্রামের মুনতাজ সানার ছেলে শাহিন সানা (৪২) সাইক্লোনের আঘাতে ভেঙ্গে যাওয়া গাছের ডাল কাটতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে মারা গেছে।

উপজেলার দোরমুটিয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার সরদার জানান, তার মুরগির খামার আম্পানের তান্ডপে মাটির সাথে মিশে যাওয়ায় ৫শ’ মুরগির ক্ষতি হয়েছে।

কেশবপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলাউদ্দীন আলা জানান, তার ইউনিয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফসল, মুরগির খামার, ঘরবাড়ি, গাছ গাছালীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সবজি, পাট, মরিচ, পান, কলা, লিচু, পেঁপে, আমসহ বিভিন্ন ধরনের ১হাজার ৪শ’ ৫০ হেক্টর জমির ৩ হাজার ৮শ’ ৯২ মেট্রিক টন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। যার মূল্য প্রায় ১৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। প্রাণী সম্পাদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৪৫টি মুরগির খামার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস জানায়, ঘরবাড়ি ভেঙ্গে ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরে ৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা, জনস্বাস্থ প্রকৌশলী দপ্তরের এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৬০টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৮টি কলেজ, ৫১টি মাদ্রাসা ভবনের ছাল উড়ে যেয়ে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে, ৪৫টি পিলার ভেঙ্গে বা উপড়ে, ৬৪০টি মিটার, ১২টি ট্রান্সফরমার, ১হাজার ৯৩ কিলোমিটার লাইন ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান বলেন, ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে ২৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের আবেদন করতে বলা হয়েছে। সরকারী বরাদ্দ পেলে সহায়তা করা হবে।


জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

Right Menu Icon