English ছবি ভিডিও
Bangla Font Problem?
শেষ আপডেট ১১:৩০ অপরাহ্ণ
ঢাকা, বুধবার , ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ ইং , ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ব্যস্ততার মধ্যেও আমার বাবা ছিলেন অত্যন্ত আবেগপ্রবণ এবং স্নেহশীল: শেখ পরশ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

    ব্যস্ততার মধ্যেও আমার বাবা ছিলেন অত্যন্ত আবেগপ্রবণ এবং স্নেহশীল: শেখ পরশ

মোহাম্মদ কাওছার হোসেন, খুলনা ব্যুরো প্রধান: বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ৯ ঘটিকায় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশ এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাইনুল হোসেন খান নিখিল এর সঞ্চালনায় ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সহ সকল শহীদের স্মরণে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন, আমির হোসেন আমু এমপি, উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং সমন্বয়ক ও মুখপাত্র, ১৪ দল।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন, মোহাম্মাদ ফরাসউদ্দিন, অর্থনীতিবিদ
সাবেক গভর্ণর, বাংলাদেশ ব্যাংক। নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি, মাননীয় মন্ত্রী, শিল্প মন্ত্রনালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। আনিসুল হক এমপি,
মাননীয় মন্ত্রী, আইন মমন্ত্রনালয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

এসময়, ১৫ আগস্ট পরবর্তী পিতৃ-মাতৃহারা এতিম হিসাবে জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, আমাদেরকে কেউ তখন বাসা ভাড়া দিতে চাইত না।আমার মেজো ফুফু অনেক কষ্টে আরামবাগে আমাদের জন্য একটা বাসা ভাড়া নেয়।ওই বাসায় আমরা কয়েক মাস থাকি। কিন্তু ওই বাসার জানালার বাইরেও আমরা উঁকি দিতে পারতাম না।

বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবার আদর স্নেহ ভালবাসার কথাস্মরণ করে পরশ বলেন, আমরা দুই ভাই মায়ের অনেকল্যাওটা ছিলাম। মাকে আমরা বাথরুমেও যেতে দিতাম না।আমাদের সারাটা দুনিয়া জুড়ে ছিল মা এবং বাবা। বাবাকে আমরা অনেক কম পেতাম। তিনি পত্রিকা অফিস আর সংগঠন নিয়ে অনেক ব্যস্ত থাকতেন। কিন্তু যতটুকুইবা বাবাকে পেয়েছি ততটুকু মজায় কেটেছে। বাবা আমাদের জন্য ঘোড়া হয়ে খেলতেন। আমি বাবার চুল আঁচড়িয়েদিতাম।

বাবা–মায়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, অনেক ব্যস্ততারমধ্যেও আমার বাবা ছিলেন অত্যন্ত আবেগপ্রবণ এবং¯স্নেহশীল। শুধু আমাদেরকেই নয় বাবা তার ভাই বোনদেরও প্রচুর ভালবাসতেন।

১৫ আগস্ট পিতৃ–মাতৃহারা শেখ পরশ নিজের উদ্ধাস্তুজীবনের স্মৃতিচারণ করে আরও বলেন, বয়স কম থাকায় আমরা অনেক কিছুই বুঝতে পারে নাই। আমরা বাবা–মাকে খুঁজেছি। অনেক কেঁদেছি। দাদী-চাচীরা আমাদেরকে ভুলিয়ে–ভালিয়ে রাখত। কিন্তু এখানে (বাংলাদেশে) আমরা বেশিদিন থাকতে পারি নাই, পরিস্থিতি এমনও হয়েছিল।আর জীবনের ঝুঁকি এতোই বেশি গিয়েছিল যে ৭৫’র পর আমরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হই।

‘‘তার আগে যেখানেই আমরা আশ্রয় নিয়েছি সেখানেই খুনীরা এসে আমাদের খুঁজেছে। অত্যাচার করেছে। অনেকে আমাদের আশ্রয় দিতে পেতেন আবার অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও আশ্রয় দিয়েছেন” সে কথাও স্মরণ করেন শেখ ফজলুল হক মনি পুত্র পরশ।

১৫ আগস্ট হত্যাকান্ডে ভাগ্যক্রমে বেঁচে থেকে পরবর্তী এতিম জীবনের তীক্ত অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ হাতড়িয়ে শেখ ফরশ আরও বলেন, আরেকটা ব্যাপার তখন আমাদেরকে কেউ বাসা ভাড়া দিতে চাইত না। কয়েক মাসপরে আমার মেজো ফুফু অনেক কষ্টে আরামবাগে আমাদের জন্য একটা বাসা ভাড়া নেয়। ওই বাসায় আমরা কয়েক মাস থাকি। কিন্তু ওই বাসার জানালার বাইরেও আমরা উঁকি দিতে পারতাম না। দম হয়ে আসত।

‘‘ আরামবাগের বাসায় আমার মেজো ফুফার সাথে খেলা করতে গিয়ে একটা দুর্ঘটনায় আমার মাথা ফেটে যায়।বাসায় ডাক্তার এনে মাথায় সেলাই দিতে হয়েছিল, মনে হয় হাসপাতালে নেয়ার মত পরিবেশ ছিল না। অথবা সাহস পায়নি। নিয়ে যেতে দাদী–ফুফু। তার মানে অসুস্থ হলেও হাসপাতালে যাওয়ার উপায় ছিল না, অনুমান করি এখন।

তিনি আরও বলেন,  উদ্ধাস্তু জীবনের প্রথম চেষ্ঠায় আমরা ভারতে ব্যর্থ হই যেতে। দ্বিতীয় চেষ্টায় অনেক কষ্টে আমরা সীমানা অতিক্রম করি। ভারতে গিয়ে আমরা এটলিস্টজীবন বাঁচানোর ঝুঁকি থেকে পরিত্রাণ পাই। কিন্তু তখনও আমাদের বলা হয়নি, বাবা–মা নাই। সবাই নির্ভৃতে বোবাকান্নাই কাঁদত। আমাদেরকে বুঝ দেয়া হত যে, বাবা–মা লন্ডনে আছে। আমরাও আশায় ছিলাম, বাবা–মা হয়ত লন্ডনে আছে; একদিন পাব।

১৯৭৯ সালে দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত আশা করতাম বাবা–মাকে কোনদিন ফেরত পাবো! একসময় বুঝতে পারলাম, বাবা–মার লন্ডনে থাকার কথাটা একটা বাস্তব গল্প নয়।


জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

Right Menu Icon